1. pcumilla30@gmail.com : Suzan :
নাহার এগ্রোর সাফল্য: মা-বাবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ এমডির পথচলা - প্রথম কুমিল্লা
September 13, 2026, 6:24 pm
শিরোনামঃ
নাহার এগ্রোর সাফল্য: মা-বাবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ এমডির পথচলা রোগীকে ফাঁদে ফেলে মোটা অংকে সিজার করেন ডা. ফাতেমাতুল জান্নাত তানিয়া শাকপুরে ইউপি কমপ্লেক্সের দাবিতে মানববন্ধন বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টের উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র‍্যালি জে.আই. চৌধুরী যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ ঢাকা- কুমিল্লা রুটে তিশা প্লাসের চরম যাত্রী হয়রানি, তীব্র ক্ষোভ জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে রূপসদী দক্ষিণ আনন্দপাড়ায় মাদকবিরোধী প্রচারণা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ‎ মানবসেবার প্রত্যয়ে হাজী আব্দুল খালেক ফাউন্ডেশন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার বিচার করেন, জনগণ আপনাদের ছাড়বে না–সাক্কু

নাহার এগ্রোর সাফল্য: মা-বাবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ এমডির পথচলা

  • Update Time : Wednesday, August 26, 2026
  • 73 Time View

মাসুদ মজুমদার ||

১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় নাহার এগ্রো ও লোহম্যান ব্রিডার্সের যৌথ টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত

পোল্ট্রি শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, অটোমেশন, লেজার টেকনোলজি এবং উন্নত জেনেটিক্সের মাধ্যমে খামারিদের দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

পোল্ট্রি শিল্পে ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারিদের জন্য টেকসই ও লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত হলো বিশেষ এক টেকনিক্যাল সেমিনার। রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘Nahar Lohmann Layer Targeting 600 Egg Production in 120 Weeks’ শীর্ষক এই সেমিনারের যৌথ আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি ও পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো এবং জার্মানির প্রখ্যাত পোল্ট্রি ব্রিডিং কোম্পানি লোহম্যান ব্রিডার্স (LOHMANN Breeders)।
সেমিনারে পোল্ট্রি খাতের সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, খামারি, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি ও অধিক উৎপাদনশীল লেয়ার ব্যবস্থাপনা, ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারের দক্ষতা এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল। ১২০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত লেয়ার মুরগির উৎপাদন ধরে রেখে একটি মুরগি থেকে গড়ে ৬০০টি ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করা। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নত জেনেটিক্স, সঠিক খামার ব্যবস্থাপনা, ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বায়োসিকিউরিটি এবং আধুনিক অটোমেটেড ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বর্তমান বাজারে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন ধরে রাখা খামারিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোহম্যান ব্রিডার্সের পক্ষ থেকে আধুনিক লেয়ার জেনেটিক্স ও বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাকিবুর রহমান তাঁর ব্যবসায়িক পথচলা, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং পোল্ট্রি শিল্পের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন।

তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তাঁর বাবা-মায়ের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা ১৯৯৩ সালে মারা গেছেন, আর আমরা ১৯৮৬ সালে খামার পরিচালনা শুরু করি। আমার মায়ের হাত ধরেই আজ ‘নাহার এগ্রো’ গড়ে উঠেছে। আমার বাবা আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দিয়েছেন। আমার পুরো ব্যবসাজুড়ে তাঁর রক্ত, ভালোবাসা, দিকনির্দেশনা ও দোয়া জড়িয়ে আছে। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাঁদের দুজনকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।” তিনি আরও জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মূল নীতি হলো—কোয়ালিটি এবং ইন্টিগ্রিটি। বর্তমানে চট্টগ্রামের অফিস থেকে পরিচালনা করে সারা বাংলাদেশের বাজারে ১৫% ডিম সরবরাহে অংশগ্রহণ করতে পারাকে তিনি খামারিদের গর্ব বলে উল্লেখ করেন।

তৎকালীন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও), এডিশনাল ডিরেক্টর এবং সিরাজুল হক গামা ও ডক্টর রফিকুল ইসলামের মতো গুণী মানুষদের সহায়তায় ব্যবসার মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। ডিএলএস (প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর)-এর সহযোগিতা ও খামারিদের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।

গত ১৬ বছর ধরে ‘রস ৩০৮’ (Ross 308) জাতটি লালন-পালন ও প্রসেস করা হচ্ছে, যার বাজারে প্রায় ৮০% মার্কেট শেয়ার রয়েছে। নাহার এগ্রোর মূল উদ্দেশ্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়, বরং বাজারে সেফ ফুড (Safe Food) নিশ্চিত করা।

১৯৯১ সালে ২টি গরু দিয়ে শুরু হওয়া ডেইরি খামারে বর্তমানে ২,০০০-এর বেশি গরু রয়েছে। দেশি ‘রেড চিটাগাং’ ও ‘মুন্সিগঞ্জের গরু’র সাথে ইউএসএ-র উন্নত সিমেন এনে ক্রস-ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে জেনেটিক ডেভেলপমেন্ট করা হচ্ছে, যেখানে ডিএলএস ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টেকনিক্যাল সহযোগিতা করছেন। এ প্রক্রিয়ায় তাঁর বড় ছেলেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।

তাঁর দুই ছেলে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ায় আধুনিকায়ন গতি পেয়েছে। একদিন বয়সী বাচ্চার ঠোঁট কাটতে আধুনিক লেজার কাটিং টেকনোলজি (Laser Cutting Technology) ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া মুরগির প্রাথমিক ওজন ও খাদ্য গ্রহণ ঠিক রেখে অন্তত ১০-১২% মুরগির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে লেয়ার ফার্মগুলোকে সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা হয়েছে।

১৯৯২ সালে সরকারের আর্থিক সহায়তায় গুঁড়ো দুধ আমদানির ব্যয় তিন বছরের মধ্যে ৪০০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকায় নেমে আসার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক নীতি সহায়তা পেলে দেশি খামারিরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম।

খামারিদের সহযোগিতায় নাহার এগ্রোর ৫০ জনের একটি বিশেষ টেকনিক্যাল টিম মাঠে কাজ করছে এবং গত এক বছরে দেশে প্রায় ৩০০টি টেকনিক্যাল সেমিনার সম্পন্ন করেছে। দেশের মেধাবীদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে চলে যাওয়ার চেয়ে দেশে থেকে খামারি ও দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা ব্যক্তিরা সত্যি প্রশংসনীয়।
নাহার এগ্রো ও লোহম্যান ব্রিডার্সের এই যৌথ উদ্যোগ দেশের পোল্ট্রি খাতে বৈজ্ঞানিক ও টেকসই আধুনিক ব্যবস্থাপনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সেমিনারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© Prothomcumilla.com   2024
Theme Customized By one host