
আরাফাত হোসেন: ঢাকা-কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী ‘সিলভার তিশা প্লাস’ পরিবহনের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, যাত্রী হয়রানি এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তীব্র যানজটের পাশাপাশি বাসের চালক ও কর্মচারীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পরিবহন বয়কটের ডাক দিয়েছেন। ভুক্তভোগীর এক যাত্রীর বিবরণ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে চান্দিনা আসতেই যানজটের কারণে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তবে আসল ভোগান্তি শুরু হয় চান্দিনা পার হওয়ার পর। মহাসড়ক ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও চালক অত্যন্ত ধীরগতিতে, লোকাল অটোরিকশার মতো করে বাসটি চালাতে থাকেন।যাত্রাপথেই আকস্মিক বিকট শব্দে বাসের একটি চাকা ফেটে (ব্লাস্ট) যায়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি হলেও চালক বা হেল্পার গাড়ি থামিয়ে তা দেখার ন্যূনতম প্রয়োজন বোধ করেননি।
যাত্রীদের তীব্র প্রতিবাদ ও চিৎকারের মুখেও ফেটে যাওয়া চাকা নিয়েই অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে গাড়িটি দাউদকান্দি পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়।গাড়িটি একপাশে হেলে পড়লে এবং ভারসাম্যহীন মনে হলে যাত্রীরা সুপারভাইজারকে বিষয়টি জানান। কিন্তু সুপারভাইজার কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো উদাসীনতা দেখান। পরবর্তীতে যাত্রীদের তোপের মুখে চালক বাসটি এমন এক নির্জন জায়গায় থামান, যেখান থেকে অন্য কোনো পরিবহনে ওঠার বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। সেখানে গাড়ি থামানোর পর শুরু হয় তিশা প্লাস কর্তৃপক্ষের নতুন নাটকীয়তা। তারা যাত্রীদের অন্য গাড়িতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, কোনো যাত্রী নিজ দায়িত্বে অন্য গাড়িতে যেতে চাইলে ভাড়া ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
গাড়িতে অতিরিক্ত (স্পেয়ার) চাকা থাকা সত্ত্বেও তা পরিবর্তনের বিষয়ে তারা একেক সময় একেক অজুহাত দিতে থাকে—কখনো বলে চাকা নেই, কখনো ৩০ মিনিট, আবার কখনো ২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে ১ ঘণ্টারও বেশি সময় যাত্রীদের রাস্তায় আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, সিলভার তিশা প্লাসের এমন ফালতু সার্ভিস ও হেল্পলাইনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #BoycottTishaPlus হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনেকেই এই বাস বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply