
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রোগীদের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সিজারের মাধ্যমে প্রসূতিদের প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার গাইনি সার্জন ডা. ফাতেমাতুল জান্নাত তানিয়ার বিরুদ্ধে।
সন্তান সম্ভবা নারীরা চেম্বারে গেলে ভুলিয়ে ভালিয়ে পছন্দের হাসপাতালে নিয়ে সিজার করে ইচ্ছেমতো বিল করে তা রোগীর স্বজনদের ওপর চাপিয়ে দেন এই গাইনি সার্জন। এমনই এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ডা. ফাতেমাতুল জান্নাত তানিয়া কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।
সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থিত ইনসাফ স্পেশালাইজসড হসপিটালে ডা. তানিয়ার চিকিৎসায় একজন প্রসূতির সন্তান প্রসব করিয়েছেন।
তানজিনা নামের ওই প্রসূতির স্বামী জানান, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ডা. ফাতেমাতুল জান্নাত তানিয়ার কাছে ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই। আমার স্ত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার অবস্থা খারাপ বলে জানান ডা. তানিয়া। দ্রুত তার সিজার করতে হবে কুমিল্লা নগরীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালের নাম বলেন। এসময় তার সাজেস্ট অনুযায়ী আমার স্ত্রীকে পাশের একটি হাসপাতালে ভর্তি করাই। খরচ কত হবে কিংবা কোন চার্জ কত এসব না বলেই তিনি আমার স্ত্রীর সিজার করেন।
প্রসূতির স্বামী আরও বলেন, তিনদিন থাকার পর আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আমাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্রে বিল দেখে আমি অবাক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বিল করে। পরে আমি আমার বড়ভাইয়ের মাধ্যমে ডাক্তার তানিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ৩২ হাজার ৫০০ টাকা বিল দিতে বলেন। এটা নাকি তার প্যাকেজ।
প্রসূতির স্বামী বলেন, ডা. তানিয়া আমাদেরকে ফাঁদে ফেলে এই কাজটা করেছেন। সিজার হওয়ার আগে তিনি আমাদের জানাননি যে তার সিজার প্যাকেজ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। ডা. তানিয়ার কম্পাউন্ডার গতকাল রাতে এসে বলে যায় আমাদের বিল ৩২ হাজার টাকা। এসময় তিনি আমাদের ফাইলের পেছনে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা লেখা দেখান। তখন অবাক হই আমি। এই লেখা কে লিখল? সিজারের বিল এত টাকা আমাদেরকে আগে বললে আমরা বিকল্প চিন্তা করতাম। একটা গোলকধাঁধায় ফেলে আমাদের সঙ্গে এমন করেছেন ডা. তানিয়া।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. ফাতেমাতুল জান্নাত তানিয়া বলেন, আমি রোগীর স্বজনদের আগেই বলেছি আমার সিজার প্যাকেজ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের ফাইলের পেছনেও লেখা আছে সেটি।
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোখলেছুর রহমান বলেন, রোগী ইবনে সিনায় ডাক্তার তানিয়াকে দেখিয়ে আমাদের এখানে এসেছেন, ভর্তি হয়ে সিজার করেছেন। এখন রোগী আর ডাক্তারের মাঝে কী কথা হয়েছে সেটি তো আমরা জানি না। ডাক্তার তানিয়া আমাদের গেস্ট ডাক্তার। তিনি আমাদের পারমানেন্ট ডাক্তার নয়।
Leave a Reply