
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা ৮ (বরুড়া) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে একটি চক্র।
গত বৃহস্পতিবার থেকে জাকারিয়া তাহের সুমনের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর এ তথ্য ছড়ানো হয়। একটি চক্র এই অপপ্রচার চালাচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে।
প্রকৃতপক্ষে, ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন জাকারিয়া তাহের সুমনের বাবা, বরুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য একেএম আবু তাহের। বাবার মৃত্যুর পর ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের দায়িত্ব আসে ছেলে জাকারিয়া তাহের সুমনের কাঁধে।
বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে আওয়ামী দোসর শিকদার গ্রুপ ন্যাশনাল ব্যাংকে নিজেদের আধিপত্য জাহির করে ব্যাংকটিতে দুর্নীতির সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে নামে-বেনামে ঋণের নামে অর্থ পাচারে মেতে ওঠে গোষ্ঠিটি। আওয়ামী দুঃশাসনের পুরো সময়জুড়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শিকদার গ্রুপ।
সেসব দুর্দিনে জাকারিয়া তাহের সুমন ব্যাংকটির একজন পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সাধারণ সভা, গুরুত্বপূর্ণ সভাগুলোতে অনলাইনে সংযুক্ত থাকতেন জাকারিয়া তাহের সুমন। সেসময় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান জাকারিয়া তাহের। যা দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
গত বছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর শিকদার গ্রুপের দুর্নীতিবাজ সেসব কর্মকর্তারাও দেশ ছাড়েন। দুর্নীতিবাজ সেসব চক্র দেশত্যাগ করলেও তাদের করা দুর্নীতির রেশ থেকে যায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে।
জাকারিয়া তাহের সুমন যেহেতু ব্যাংকটির পরিচালক সে হিসেবে তার নামও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
অভিযোগের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে লিখিত জবাব দেন জাকারিয়া তাহের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার জবাবে সন্তুষ্ট হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে নিশ্চিত হন। যার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এটি স্পষ্ট করে যে, তিনি উক্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একটি মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তারই অংশ হিসেবে দুদকে হওয়া সেই অভিযোগকে ৬৪৭ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
Leave a Reply