
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।। কুমিল্লায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এক অনন্য নাম হয়ে উঠেছেন উম্মে সালমা ডরোথি। সংগঠন ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
উম্মে সালমা ডরোথি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্স (জেডসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি মুভ ফর চেঞ্জ নামক সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের একমাত্র নারী উপদেষ্টা ও ফাউন্ডিং মেম্বার।
সংগঠনের মাধ্যমে তিনি কুমিল্লা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক হেফজখানা ও এতিমখানার দায়িত্ব নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা নবাব বাড়ি এলাকার “হোচ্ছাম হেফজখানা ও এতিমখানা”, নামতলা হেফজখানা ও এতিমখানা এবং দাওয়াতুল হিফযখানা ও এতিমখানা। এছাড়া নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পিতাম্বরপুর জয়াগ দক্ষিণ উলুপাড়া ও গুণসিং এলাকায় দীন মোহাম্মদ কোম্পানির প্রতিষ্ঠিত আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন ইবতেদায়ী নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসাটিও তিনি নিজ খরচে পরিচালনা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মুভ ফর চেঞ্জের মাধ্যমে এতিম শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে তাদের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা, অসহায় পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনটি মাদ্রাসায় ৪২ জন এতিম শিশু রয়েছে, যাদের থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংগঠন বহন করছে।
এছাড়াও সংগঠনটির নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি রয়েছে। তিনি নিজেও ১৯ বার রক্ত দান করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমেও সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
উম্মে সালমা ডরোথি বলেন, সমাজের অবহেলিত ও এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই তার মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি মানবিক ও স্বাবলম্বী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয়রা জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সংগঠনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় উম্মে সালমা ডরোথি ইতোমধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছেন। তার এই মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
Leave a Reply