
আরাফাত হোসেন : কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় থমকে গেছে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও হাট-বাজারের ইজারা থেকে আশানুরূপ আয় না হওয়ায় চরম অর্থসংকটে ভুগছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নাগরিক সেবায়। রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উন্নয়ন কার্যক্রমে এসেছে স্থবিরতা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি অর্থবছরই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে লক্ষ্যমাত্রার একটি বড় অংশই অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। নিজস্ব তহবিল সংকুচিত হওয়ায় নতুন কোনো বড় প্রকল্প হাতে নিতে পারছে না পৌরসভা। ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের অভাবে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজস্ব আদায়ের এই মন্দার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
নাগরিকদের অনীহা: সময়মতো হোল্ডিং ট্যাক্স বা কর পরিশোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব।
সমন্বয়ের অভাব: পৌর কর্তৃপক্ষের কর আদায়ের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব এবং কার্যকর মনিটরিংয়ের ঘাটতি।
ট্রেড লাইসেন্স সংকট: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়লেও অনেকেরই নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন না করার প্রবণতা।
পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত করের নোটিশ দেওয়া হলেও সেই তুলনায় সুযোগ-সুবিধা মিলছে না। নাগরিক সেবা নিশ্চিত না হলে কর দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে, পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে তারা জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নাগরিকদের কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে এই বিশাল পৌরসভার উন্নয়ন চাকা সচল রাখা অসম্ভব।
সব মিলিয়ে, বরুড়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও নাগরিক-বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কর আদায়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply