
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরেও বাড়েনি কুমিল্লা নগরীর আয়তন। এতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ডিগ্রি শাখা, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতাল ও চাঁন্দপুর এলাকা নগরীর বাইরে রয়েছে। এতে নগরী-সংলগ্ন এলাকার মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন, রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সিটি কর্তৃপক্ষ। এজন্য সিটি করপোরেশনের আয়তন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আরও চারটি উপজেলার অংশ নিয়ে সিটির আয়তন বর্ধিত করার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড এবং পাশের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্তমান আয়তন ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গ কিলোমিটার। এতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ডিগ্রি শাখার দক্ষিণ পাশে ছায়াবিতান হাউজিং সোসাইটি। এই এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করেন। এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক পানিতে ডুবে আছে। বাতাসে ভাসছে আবর্জনার দুর্গন্ধ।
এদিকে একটু বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী আসেন। এখানেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, নেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। বৃষ্টিতে হাসপাতাল আঙিনা ডোবায় রূপ নেয়। একই অবস্থা দেখা যায় চাঁন্দপুর এলাকায়।
শাসনগাছা বাস টার্মিনাল আরেক অবহেলিত জনপদের নাম।
নগরী-সংলগ্ন দৌলতপুর ছায়াবিতান সোসাইটির সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়নের অনেক এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা উচিত। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হওয়ায় অনেক এলাকার রাস্তা সংস্কারের কাজও আটকে থাকে। বিশেষ করে ছায়াবিতান এলাকা সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যায়। এখানে ড্র্রেনেজ ব্যবস্থা চালুসহ কোনো নাগরিক সেবা মিলছে না।
কুমিল্লা রেলওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারক শিক্ষানুরাগী আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, কুমিল্লা রেল স্টেশন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কিন্তু সেটি নগরীতে পড়েনি। এখানে রেলওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়গুলো সিটির সেবা পাচ্ছে না। এতে এই এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কুমিল্লা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জামিল খন্দকার বলেন, আয়তন কম থাকায় নগরীতে এখন ঘিঞ্জি পরিবেশ বিরাজ করছে। নগরীর আয়তন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ডিগ্রি শাখা, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চাঁন্দপুর এলাকা নগরীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, কুমিল্লা নগরীর আয়তন বাড়ানোর বিষয়ে ২০২২ সালে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। তবে সেটি আর অগ্রগতি হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটির আয়তন ২৩৫.০১ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছি। এই প্রস্তাবনা আমরা দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। তিনি আরও বলেন, আয়তনে কুমিল্লা সিটি সব থেকে ছোট। কম আয়তনের কারণে আমরা বরাদ্দ কম পাচ্ছি। এ ছাড়া আমরা রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। নতুন প্রস্তাবনায় কুমিল্লা আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন, বুড়িচংয়ের ময়নামতি ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply