1. pcumilla30@gmail.com : Suzan :
OHCHR অফিস বাংলাদেশে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় কেন ? - প্রথম কুমিল্লা
July 31, 2026, 5:44 am
শিরোনামঃ
বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: চিকিৎসকের কাছে কৈফিয়ত তলব করলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরুড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঘাস কাটার আধুনিক মেশিন উপহার দিলেন প্রবাসী তারেক মাহমুদ কুমিল্লা ছাত্র অধিকার পরিষদে কমিটি গঠনের তোড়জোড়, পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ  কমিটি ঘিরে সরব কুমিল্লা ছাত্র অধিকার পরিষদ, আলোচনায় একাধিক নাম এমপি আবুল কালামকে নিয়ে বটবাহিনীর অপপ্রচার লাকসামে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি ঢাকা’র উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা রোটারী ক্লাব অফ ভাওয়াল হেরিটেজ প্রেসিডেন্ট একরামুল হকের দুইটি সম্মাননা আওয়ার্ড অর্জন মোতালেব প্লাজা দোকান মালিক সমিতি: বিভ্রান্তি পরিহার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি পবনের আবদুল হালিম মজুমদারের উদ্যোগে জলবদ্ধতার অবসান, বদলে গেছে চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র

OHCHR অফিস বাংলাদেশে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় কেন ?

  • Update Time : Friday, July 11, 2025
  • 452 Time View

বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের বিষয়ে বিদেশি মহল থেকে নানা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ নিজস্ব সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় যথেষ্ট সচেতন ও সক্ষম। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জাগে—এই অফিস কি প্রয়োজনীয়? নাকি এটি পরোক্ষ হস্তক্ষেপের হাতিয়ার?

OHCHR (Office of the High Commissioner for Human Rights) জাতিসংঘের একটি শাখা সংস্থা, যার সদর দপ্তর জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে। এ সংস্থার কাজ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান।

তবে এই অফিস সাধারণত যুদ্ধবিধ্বস্ত, গৃহযুদ্ধপূর্ণ, জাতিগত সংঘাতে বিপর্যস্ত, দখলদারিত্বে থাকা বা রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়া দেশে স্থাপন করা হয়—যেখানে বিচারব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনে নিজেই জড়িত থাকে।

বাংলাদেশ একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক কাঠামোর অধিকারী দেশ, যেখানে রয়েছে— নিজস্ব সংবিধান, কার্যকর ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, মানবাধিকার সংক্রান্ত ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ। অতএব বাংলাদেশে জাতিসংঘের এই ধরনের তদারকি অফিস স্থাপন একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক এবং অনুচিত।

কেন OHCHR অফিস বাংলাদেশে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয়?

১. রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরোক্ষ হুমকি
এই ধরনের অফিস প্রকারান্তরে প্রশাসনিক কাঠামোয় বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে। মানবাধিকারের নামে গোপন পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তদারকি করা হয়।

২. বিদেশি রাজনীতির প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম
অফিসটি অনেক সময় পশ্চিমা স্বার্থে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করে। একে হাতিয়ার করে বিদেশি রাষ্ট্র ও সংস্থা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করতে পারে।

৩. ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় OHCHR-এর চরম ব্যর্থতা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ইসরায়েলের গণহত্যা, শিশু হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বরং তারা কূটনৈতিক ভাষায় নিন্দা করে দায়িত্ব শেষ করেছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের দ্বিমুখী আচরণ ও নৈতিক দুর্বলতা স্পষ্ট।

৪. জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র
OHCHR অফিস আসলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করে। ফলে দেশের নিজস্ব নীতিমালা ও ব্যবস্থা গৌণ হয়ে পড়ে এবং বিদেশি কাঠামোর ওপর নির্ভরতা বাড়ে।

আইনের শাসন ও মানবাধিকার: বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

আইনের শাসন (Rule of Law) একটি রাষ্ট্রে মানবাধিকার নিশ্চিত করার মৌলিক ভিত্তি। বাংলাদেশ সংবিধানের ১১, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে এই নীতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে।

🔹 আইনের শাসনের মূল রূপরেখা:

১. আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—শাসক, সরকার, প্রশাসন, সবাই আইনের অধীন।
২. ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা—বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ হতে হবে।
৩. ভবিষ্যদ্বীক্ষী আইন প্রয়োগ নয়—কোনো আইন প্রণয়নের পর তা পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডে প্রযোজ্য নয় (ex post facto law নিষিদ্ধ)।
৪. প্রাকৃতিক বিচারনীতি—শুনানি না করে বা পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।

🔹 বাস্তবতা ও প্রয়োগ:

বাংলাদেশে আদালতসমূহ নিয়মিতভাবে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট রিট, হাইকোর্ট বেঞ্চের সুয়োমোটো আদেশ ও নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে ন্যায়ের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়—বাংলাদেশে আইনের শাসন সক্রিয় ও কার্যকর।

বিদেশি তদারকি নয়, শক্তিশালী হোক জাতীয় কাঠামো

✅ কিছু গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত বিকল্প পরামর্শ:

🔹 জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
🔹 জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে হিউম্যান রাইটস হেল্প ডেস্ক চালু
🔹 মানবাধিকার বিষয়ে বিচারক, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
🔹 মানবাধিকার শিক্ষা স্কুল, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক করা
🔹 মানবাধিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন—দ্রুত বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে
🔹 ভিকটিম ও হুইসল ব্লোয়ার সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন ও কঠোর প্রয়োগ
🔹 বার্ষিক মানবাধিকার মূল্যায়ন রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করা
🔹 নাগরিক সমাজ ও এনজিওদের রাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের মধ্যে এনে জবাবদিহিমূলক করা

পরিশেষে বলা যায়। মানবাধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের নিজস্ব কর্তব্য এবং সংবিধানের অঙ্গীকার। জাতিসংঘের OHCHR-এর মতো বিদেশি তদারকি অফিস কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, বরং তা দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক প্রকার আক্রমণ। বাংলাদেশে আইনের শাসন, সচেতন নাগরিক সমাজ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়েই মানবাধিকার রক্ষার টেকসই মডেল তৈরি করা সম্ভব। আমাদের প্রয়োজন নিজের উপর আস্থা—বিদেশি তদারকি নয়।

বিশ্লেষক—
এডভোকেট জয়নাল মাযহারী
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট কুমিল্লা
পি-এইচ-ডি গবেষক ও আইন বিশ্লেষক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© Prothomcumilla.com   2024
Theme Customized By one host