
আদালত পাড়ায় ‘পাকা চুলে’র মহিমা: বয়স কি সত্যিই ওকালতির পরিচয়?
এডভোকেট জয়নাল মাযহারী।
আদালতপাড়ায় অনেক সময় এমন চিত্র দেখা যায়—দীর্ঘদিন অন্য পেশায় চাকরি শেষে অবসরে গিয়ে কেউ আইন পেশায় যোগ দিচ্ছেন। বয়স, গম্ভীর চেহারা ও সামাজিক পরিচয়ের কারণে তিনি দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছেন। অন্যদিকে তরুণ আইনজীবীরা বছরের পর বছর পড়াশোনা, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সিনিয়রের অধীনে কাজ করেও শুরুতে মক্কেল ও সমাজের কাছে অবমূল্যায়িত হন।
লেখক অ্যাড. জয়নাল মাযহারীর মতে, আইন পেশা কেবল বয়স বা বাহ্যিক অভিজ্ঞতার জায়গা নয়; এটি বাস্তব আদালত অভিজ্ঞতা, আইনি দক্ষতা, যুক্তি উপস্থাপন ও কঠোর পরিশ্রমের পেশা। অন্য কোনো চাকরিতে দীর্ঘদিন কাজ করলেই আদালতে সিনিয়র মর্যাদা পাওয়া উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, এতে তরুণ আইনজীবীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। পাশাপাশি আদালত এখন ডিজিটাল হওয়ায় নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এ কারণে তিনি বার কাউন্সিলে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট বয়সসীমা, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ এবং অন্য পেশা থেকে আসা প্রার্থীদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং টেস্ট চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।
লেখকের ভাষায়, সনদ কাউকে আদালতে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত সিনিয়র হওয়া যায় দীর্ঘদিনের ওকালতি চর্চা, মেধা ও সততার মাধ্যমে।
লেখক- অ্যাড. জয়নাল মাযহারী
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট কুমিল্লা।
Leave a Reply