
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নতুন নগর ভবন প্রতিষ্ঠা নিয়ে আসল-নকল, আদি-নতুন কিংবা ঐতিহ্য-আধুনিকতা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা কেবল একটি স্থাপনা নির্মাণের প্রশ্ন নয়; বরং একটি নগরের আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রশ্ন।
দার্শনিক দৃষ্টিতে কোনো সমাজ বা নগর কেবল অতীতের ঐতিহ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, আবার আধুনিকতার নামে নিজের শিকড়ও অস্বীকার করতে পারে না। প্রকৃত উন্নয়ন হলো অতীতের গৌরব, ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানগরিমাকে ধারণ করে নতুন সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে তার সৃজনশীল সমন্বয় ঘটানো।
Cumilla একটি প্রাচীন জনপদ, যার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য, রাজনৈতিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের দীর্ঘ উত্তরাধিকার। নতুন নগর ভবন যদি এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে ধারণ করে আধুনিক নাগরিক সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে, তবে সেটিই হবে আদি ও নতুন কুমিল্লার প্রকৃত মিলনস্থল।
অতএব, আসল ও নকলের বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নগর ভবন কতটা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে, কতটা ইতিহাস-ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা করবে এবং কতটা আধুনিক, মানবিক ও জ্ঞাননির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। কারণ একটি নগরের প্রকৃত পরিচয় তার ভবনের ইট-পাথরে নয়, বরং তার মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও উন্নয়নচিন্তায় নিহিত।
“আদি কুমিল্লা শিকড়ের শক্তি, নতুন কুমিল্লা অগ্রগতির প্রতীক; উভয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও আধুনিক নগরসভ্যতা।”
কুমিল্লাকে ভালোবাসি।
লেখক: আলী হোসেন
বাড়ি: বরুড়া,কুমিল্লা।
Leave a Reply