
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়েছে। উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র রাষ্ট্রীয় আশ্রয়স্থলটি এখন নিজেই যেন ‘রোগাক্রান্ত’। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং নোংরা পরিবেশের কারণে প্রতিদিন শত শত রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ডাক্তারদের অনুপস্থিতি ও অবহেলা নিত্য দিনের কাজ।
সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায় সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। তবে টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও ডাক্তারদের দেখা মেলে না। অনেক চিকিৎসকই নির্ধারিত সময়ে চেম্বারে আসেন না, আবার কেউ কেউ হাজিরা খাতায় সই করেই ব্যক্তিগত প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা ক্লিনিকে চলে যান। বিশেষ করে দুপুরের আগেই বহির্বিভাগ (OPD) প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগেও অনেক সময় ডাক্তার না পেয়ে নার্স বা ওয়ার্ড বয়দের চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে দালালদের সিন্ডিকেট হাসপাতালে সরকারি খরচে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও তা প্রায় সবসময় ‘নষ্ট’ বা ‘বন্ধ’ অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়। হাসপাতালের ভেতরেই সক্রিয় রয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল চক্র।
ডাক্তারদের একাংশ এবং কর্মচারীরা মিলে রোগীদের জোরপূর্বক বাইরের ক্লিনিকে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা করতে বাধ্য করেন।ওষুধ সংকট ও নোংরা পরিবেশ সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও জিনসার থেকে আসা মফিয়া বেগম জানান, হাসপাতাল থেকে সামান্য গ্যাস্ট্রিকের বড়ি বা প্যারাসিটামল ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয় না। সব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।
এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ড, বাথরুম ও চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা এবং দুর্গন্ধময়, যা সুস্থ মানুষের জন্যও অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, সকাল ৮ টায় আসছি টিকিট কাটতে। এখন দুপুর ১২টা বাজে, ডাক্তার রুমে নাই। আমরা গরিব মানুষ, প্রাইভেটে দেখানোর টাকা নাই দেখেই এখানে আসি। কিন্তু এখানে দেখার কেউ নাই।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং রোগীরা বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ভয়াবহ চিত্র বদলাতে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নজরদারি দাবি করেছেন।
Leave a Reply