
আরাফাত হোসেন:
কুমিল্লায় সরকারি দপ্তরগুলোতে বড় ধরনের রদবদল ও নতুন মোড় এসেছে। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতাকে সরকারের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার উন্নয়ন ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণ তৈরি হলো।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে সরকারের গ্রেড-২ পদমর্যাদায় নবগঠিত ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (কুউক) এর প্রথম রাজনৈতিক নেতাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে বিল পাসের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার শীর্ষ পদে তার আগমনকে কুমিল্লার সামগ্রিক মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগসহ সিটির নিয়মিত প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিটি করপোরেশনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিক সেবার কেন্দ্রস্থলে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
কুমিল্লার দুটি শীর্ষ প্রশাসনিক ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের চাবিকাঠি এখন একই রাজনৈতিক দলের মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে। এই রদবদলের ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে যেমন গতি আসবে, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও এটি একটি বড় চমক। এই দ্বৈত নিয়োগের খবরে কুমিল্লা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। তাদের মতে, দলের দুই যোগ্য ও ত্যাগী নেতার মূল্যায়নে মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একই সময়ে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের মতো দুটি বড় সংস্থার শীর্ষ পদে মহানগর বিএনপি নেতৃত্ব আসায় নাগরিক সেবা ও নগরায়নের সমন্বয় অনেক সহজ হবে। তবে দল ও প্রশাসনের ভারসাম্য বজায় রেখে তারা কতদূর সফল হন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
Leave a Reply