
আরাফাত হোসেন: কুমিল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণীর বরুড়া পৌরসভা এখন অভিভাবকহীন সংকটে ভুগছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেয়রদের সরিয়ে সরকার উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্ণকালীন পৌরপ্রধান বা মেয়রের অনুপস্থিতি এবং সরকারি কর্মকর্তার ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে পৌরসভার নিয়মিত কাজ ও সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। যথাযথ তদারকির অভাবে গতি হারিয়েছে মাঠপর্যায়ের জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো।
মেয়র না থাকায় দীর্ঘমেয়াদি কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্ট্রিট লাইট বা সড়ক বাতি মেরামতের মতো অতি প্রয়োজনীয় কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ঠিকাদারদের বিল পাস ও নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় চলমান অনেক কাজ মাঝপথে আটকে আছে।
পৌরবাসীদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সেবা—যেমন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট এবং ট্রেড লাইসেন্স উত্তোলনে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। পূর্বে যেখানে এসব কাগজপত্রে দ্রুত মেয়রের স্বাক্ষর মিলত, এখন তা ফাইলের স্তূপে আটকে থাকছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন পৌর ভবনে ঘুরেও সঠিক সময়ে সেবা পাচ্ছেন না।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তদারকির তীব্র অভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাজারের বেশিরভাগ সড়ক ময়লা-আবর্জনায় ছড়িয়ে পড়ছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে মশার উপদ্রব। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে কাউন্সিলর ও মেয়রের ভয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও এখন তাদের কাজে চরম উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁর পক্ষে সার্বক্ষণিক পৌর ভবনে সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিজস্ব দপ্তরের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি পৌরসভার বড় একটি প্রশাসনিক ক্ষেত্র সামলাতে গিয়ে ফাইল ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতা ও চেইন অব কমান্ডের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বরুড়া পৌরসভার এই অচলাবস্থা দূর করতে অতি দ্রুত পূর্ণকালীন ও সক্রিয় প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। নাগরিক সেবা পুরোপুরি সচল করতে এবং থমকে যাওয়া কাজগুলোতে গতি ফেরাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পৌরবাসী।
Leave a Reply