
কুবি প্রতিনিধি : ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি”, এই চিরন্তন অনুভূতিকে ধারণ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা, আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা শেষে আসা এই উৎসব শিক্ষার্থীদের জীবনে নিয়ে আসে প্রশান্তি ও নতুন উদ্দীপনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক জীবনের আবর্তে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদের ছুটি যেন এক পশলা প্রশান্তির বৃষ্টি। উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার সেই আবেগঘন মুহূর্ত। তাদের কাছে ঈদ কেবল নতুন পোশাক বা রসনাবিলাসে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শৈশবের স্মৃতিচারণ, পারিবারিক বন্ধন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে কাটানো ঈদের আনন্দ তুলে ধরছেন ক্যাম্পাস প্রতিনিধি প্রীতম কান্তি গোপ।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসাইন বলেন, “ঈদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পুরো মাসজুড়ে রমজানের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আত্মনিবেদনের পূর্ণতা। রমজান আমাদের যে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আল্লাহর প্রতি ভক্তি শেখায়, ঈদ সেই শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার সময়। ক্যাম্পাসে আমরা বিভিন্ন জেলা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ থেকে এলেও ঈদের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মেসেজের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করি। এই মিলনমেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি বৃহৎ পরিবার।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী যয়নব আজাদী লুবনা বলেন, “ছোটবেলায় ঈদ মানেই ছিল নতুন জামা, সেমাই আর আনন্দ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এর গভীরতা আরও বেশি উপলব্ধি করতে পারছি। এখন ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও একতার প্রতীক। একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না, ঈদ সেই সুযোগ করে দেয়। পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে। পাশাপাশি, ঈদ আমাদের শেখায় ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।”
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী শিপন খান বলেন, “ঈদ আমাদের জীবনে শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আনন্দ, ভালোবাসা ও একতার প্রতীক। সারা বছর অপেক্ষার পর ঈদ আসে খুশির বার্তা নিয়ে। এই দিনে মানুষ সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সিনিয়রদের থেকে ঈদ সালামি পাওয়া কিংবা জুনিয়রদের দেওয়া, সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস যেন আরেকটি পরিবারের রূপ নেয়, যা ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে।”
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিনা আক্তার বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর কাছে ঈদ মানে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মাঝে এক টুকরো স্বস্তি, আনন্দ ও আত্মিক প্রশান্তির সময়। আমরা ছুটিতে নিজ নিজ শহর বা গ্রামে ফিরে যাই, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। যাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি, এটাই ঈদের প্রকৃত শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ হলো আনন্দ, বিশ্রাম, সম্পর্ক ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সমন্বয়।”
কুবিয়ানদের কাছে ঈদ মানে ব্যক্তিগত আনন্দের গণ্ডি পেরিয়ে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা শেখার এক উপলক্ষ। রমজান ও ঈদ শিক্ষার্থীদের জীবনে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং এটি আত্মউন্নয়ন ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে প্রতিফলিত হয়।
Leave a Reply