
আজ চ্যানেল ২৪ সহ স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ।
“শিক্ষামন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কুবিতে সিন্ডিকেট সভা আটকানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে” এই শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টর মাধ্যামে কুবি ছাত্রদলের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুভ’র বিরুদ্ধে প্রচার হওয়া নিউজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। কেহ কেহ লিখেন, ‘ শুভ ছাত্রদলের মেধাবী পরিক্ষিত সৈনিক, সে কোন অন্যায় করতে পারে না,এই নিউজ শুভ’র বিরুদ্ধে কুবি জামাত প্রশাসনের অপপ্রচার’, কেহ পোস্ট করেন, ‘ শুভ ভাই আমাদের পরিচিত মেধাবী সন্তান,আওয়ামী আমলে নির্যাতিত নেতা,বহুবার মামলা হামলার শিকার,পুলিশের গুলিবিদ্ধ ছাত্রনেতা, একাধিকবার জেল খেটেছেন,জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে হাসিনা পতনে সহযোগিতা করেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাত ভিসি,কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ইচ্ছা প্রনোদিতভাবে শুভকে চাপে রাখতে এই মিথ্যা নিউজ করিয়েছেন’, কেহ লিখেছেন, ” ৫ আগষ্টের পর উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হাত ধরে জামাতের এমপি তাহেরের মাধ্যমে ভিসি,প্রোভিসি,কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ হয়,পরবর্তী এই জামাত প্রশাসন কুবি ছাত্রদলকে কোনঠাসা করে জামাত শিবিরের লোকদের শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়, জামাতের লোকদের অনিয়ম করে ঠিকাদারি কাজ দেয়ায় কুবি ছাত্রদলের পক্ষে শুভ প্রতিবাদ জানায় এবং এর জবাব চায়, তাই জামাত প্রশাসন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে শুভ’র বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজ করিয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই’ কেহ আবার বর্তমান জামাত প্রশাসনকে হুশিয়ার দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, গত ১৮ মাসে কুবি প্রশাসনের যত অনিয়ম রয়েছে সকল কিছু জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব- মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, দেখেন প্রথমতো চ্যানেল ২৪ আমার সাথে কথা বলে নি,আমার কোন কথা না নিয়েই তারা আমার বক্তব্য ছাপিয়েছে যা সাংবাদিকের এথিকসে পরে না। দ্বিতীয়তো বর্তমান কুবি প্রশাসনের সকলে জামাতের লোক, ভিসি,কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভিন্ন হল প্রভোস্ট সহ অনেকে,তারা এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বসে বিগত ১৮ মাসে কুবিতে অবৈধ নিয়োগের সাম্রাজ্য তৈরি করেছে,মেধাবীদের বাদ দিয়ে শুধু মাত্র জামাত শিবির দেখে দেখে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগ দিয়েছে, সেখানে ছাত্রদলের অনেক মেধাবীদের যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও নিয়োগ দেয় নি, তারা ঠিকাদারি কাজেও আনিয়ম করে জামাত ও আওয়ামী ঠিকাদারদের সুবিধা নিয়ে কাজ দিয়েছে, এ বিষয়ে দুদক কুবি প্রশাসন থেকে এবিষয়ে জানতেও চেয়েছিলো,কিন্তু দুদককে কি উত্তর দিয়েছে তা আজও আমরা শিক্ষার্থীরা জানিনা, বর্তমান কুবি প্রশাসন তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট ও আপগ্রেডেশন বোর্ড ডাকিয়ে তাদের জামাতের লোকদের প্রমোশন ও চাকরি স্থায়ী করনে অনিয়মের চক আঁকছে, এসকল বিষয় জানতে চাওয়ায় কুবি জামাত প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিউজ প্রচার করাচ্ছে। তারা তাদের জামাত দলীয় সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যবহার করে কুবি ছাত্রদলের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পনা করছে,কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তা হতে দিবে না।
এ বিষয়ে শুভ আরো বলেন, বর্তমান কুবি ভিসি সে নিজেও ফৌজদারি মামলায় আসামি, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের এনআইডি তথ্য প্রচার মামলার ১১ মাম্বার আসামী,যেই মামলায় প্রথম আসামী হাসিনা পুত্র জ্বয়। এমন একজন অপরাধী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থাকতে পারে না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আরেক জামাত শিক্ষক আবদুল হাকিমকে প্রক্টর করা হয়,কিন্তু সে শিক্ষার্থীদের কোন নিরাপত্তা দিতে পারছে না,বার বার ব্যর্থ হচ্ছে, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের বন্ধের আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কুমিল্লা শহরে টোকাই ছিনতাইকারী হামলা করেছিলো,পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অপরাধীদের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আসা হয়, অভিযুক্ত কিশোর গ্যাংদের নিজের স্বীকারোক্তিতে তারা শহরের জামাতের সাবেক কাউন্সিলর কিবরিয়ার লোকজন,ভিক্টিম ও বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে কুবি প্রশাসন নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করার কথা থাকলেও তারা মামলা দায়েরতো করেই নি,অপরাধীদের জেলে না দিয়ে জামাত নেতা কিবরিয়ার সুপারিশে কুবি জামাত প্রক্টর ঐরাত ৩ টার সময় থানা থেকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছেড়ে দেয়। এবিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকিতে কিনা জানতে চাইলে কুবি জামাত প্রক্টর কুবি ছাত্রদলের নেতাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। এসকল বিষয়ে জামাত প্রশাসন থেকে জানতে চাইলে তারা আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করায়। যা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর, এটার কারনে আমার ব্যক্তিগত জীবন ও আমার রাজনৈতিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এই ধরনের হীন কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং উল্লেখিত সকল বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপে তদন্ত কমিটি গঠন করে ভিসি,কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট সহ সকলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবী জানাই।
সর্বশেষ, সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে আবেদন থাকবে,যে কেহ কোন অভিযোগ নিয়ে আসলে তার প্রমান ও ডকুমেন্টস সরবরাহ ব্যতীত কোন সম্মানিত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নিউজ করা থেকে বিরত থাকুন। সাংবাদিকরা হচ্ছে সমাজের আয়না সরুপ, আপনাদেরকে কেহ যেন নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে না পারে আরো সতর্ক হোন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নিয়ে তার সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরুন, যে কেহ মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে তা আগে যাচাই করুন,মনে রাখবেন আপনার একটি ভুল নিউজ সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে।
Leave a Reply