
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা নগরীতে রাতের বেলায় একটি পেট্রোল পাম্পে অকটেন নেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল বাঁধে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উল্টো নিজেরাই বিপত্তি সৃষ্টি করে উপস্থিত জনতার রোষানলে পড়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ ইস্টার্ন ট্রেডিং করপোরেশন নামক পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
হট্টগোলের কারণে অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে আক্ষেপ নিয়ে ফিরে গেছেন।
সোমবার ভোররাত তিনটার দিকে নগরীর টমছমব্রিজ ইস্টার্ন ট্রেডিং করপোরেশন নামক পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায় শতশত মোটরসাইকেল সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে একের পর এক তেল নিচ্ছে। বেশ কিছু মোটরসাইকেল চালক সেই সিরিয়াল অমান্য করে অনেকটা জোরপূর্বক পাম্পের তেলঘরের সামনে এসে ঘির দিয়ে দেন। এতে সিরিয়ালে থাকা মোটরসাইকেল চালকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় পুরো পাম্প এলাকাজুড়ে হট্টগোল বাঁধে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে পুলিশকে ফোন করান। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসেন কোতোয়ালি থানাধীন কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এএসআই) জামাল এবং কনস্টেবল বালা কুমার।
পুলিশ এসে শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা থাকলেও, ওই পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই উল্টোপথে এসে আগে নিজের মোটরসাইকেলে তেল নিয়ে নেন। তেল নেওয়ার সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০০ টাকার করে তেল দিচ্ছিল পাম্প কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই পুলিশ সদস্যরা ১ হাজার টাকার অকটেন দেওয়ার জন্য চাপ দেন তেল দেওয়া অয়েল বয়কে। পরে নিজের মোটরসাইকেলে তেল নিয়ে পাম্পের এক পাশে নির্জন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষের হট্টগোল দেখতে থাকেন।
এসময় উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অকটেন শেষ হয়। অকটেন না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা চেপে ধরেন এএসআই জামালকে। পরে পাম্প কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আজিমুল হক নামের এক অকটেন প্রত্যাশী বলেন, আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি লাইনে। কিছু লোক জোর করেই উল্টোপথে এসে তেল নিচ্ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উল্টোপথে আসা লোকদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা না করেই উল্টো তারা আগে তেল নিয়ে গেল।
মিনার হোসেন নামের আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তিনি পুলিশ হয়েছে তো কী হয়েছে? আমরা যে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি, সকালে আমাদের অফিস আছে। আমরা তেল নিতে পারছি না, তিনি কেন সিরিয়াল অমান্য করে তেল নেবেন? আইনের লোক হয়ে আইন ভঙ্গ করার কোনো নাই?
জয়নাল আবেদীন নামের আরও একজন বলেন, পুলিশ সদস্য অকটেন নিয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু পাম্পে যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে তিনি সেটিকে ঠিক করার চেষ্টা না করে এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছেন। মানুষ যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, সিরিয়াল অমান্য করে তেল নিচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। আমরা পেছনে সিরিয়াল থেকে তাকে বারবার ডাকছিলাম, তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জামাল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে বলেন, সরকার আইন করেছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্সকে আগে তেল দিতে হবে, তাই আমি আগে নিয়েছি। এসময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক বলেন, একজন সাংবাদিকের ফোন পেয়ে আমিই ওই পাম্পে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। আমাদের পুলিশ সদস্যদের তো মোটরসাইকেল ডিউটি ছিল না কালকে। কেন তারা তেল নিল এবং পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণ করল না এ বিষয়ে এএসআই জামালকে ডেকে জবাবদিহি করা হবে।
Leave a Reply