
বরুড়া সংবাদদাতা: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আওতায় গত দশ বছরের আয়, ব্যয়, অডিট ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো জবাব দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আবেদনে গত দশ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব, বছরভিত্তিক আর্থিক বিবরণী, বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের তথ্য, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয়, অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয়, অফিস পরিচালনা ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া সকল ভাউচার, বিল, রসিদ ও সহায়ক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, কলেজের মালিকানাধীন জমি, ভবন, ভাড়াকৃত দোকান/কক্ষ, যানবাহনসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা, সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ের হিসাব এবং গত দশ বছরের অডিট কার্যক্রম কারা পরিচালনা করেছেন—সে তথ্যও আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে গত দশ বছরের সকল অডিট রিপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি এবং বার্ষিক বাজেট ও অডিট রিপোর্ট অনুমোদন সংক্রান্ত গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্তের কপিও চাওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত ২৯ জানুয়ারি পয়ালগাছা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এবং ২৪ মার্চ কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বরাবর এ আবেদন পাঠানো হয়। আবেদনে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ধারা ৪, ৭ ও ৯ অনুযায়ী একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত লিগ্যাল নোটিশের কোন জবাব দেওয়া হয়নি।
প্রথম ও দ্বিতীয় নোটিশ দেওয়ার পরও কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এক সপ্তাহ সময় দেন, তারপর রিপোর্ট করেন। আমি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছি। তারা বিষয়টি নিয়ে বসবে, সমাধান হবে।”
কলেজ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “আমি বিষয়টি দেখছি। কলেজ অধ্যক্ষকে নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য বলেছি।”
এ বিষয়ে নোটিশ প্রদানকারী কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী জাকির হোসেন মিয়াজী বলেন, “আমি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী গত ২৯ জানুয়ারি পয়ালগাছা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের গত ১০ বছরের আয়-ব্যয়, অডিট, সম্পত্তি ও আর্থিক নথিপত্র চেয়ে আবেদন করি। কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য দেয়নি, যা আইনের লঙ্ঘন। পরে গত ২৪ মার্চ কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বরাবর প্রথম আপিল করি। এখনো কোনো উত্তর না পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তথ্য কমিশনে দ্বিতীয় আপিল করা হবে। সেখান থেকেও প্রতিকার না পেলে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, এই কলেজে ২০১০ সালের পর আর কোনো অডিট হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১৬ বছর ধরে অডিট না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কলেজ অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ২০১১ সালের ২৯ জুন এই কলেজে যোগদান করেন। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে কলেজটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
Leave a Reply