
সুজন মজুমদার : কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় পর্যায়ে শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বরুড়া পৌর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং স্বদেশপল্লীর আয়োজনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর রুহুল আমিন এবং স্বদেশপল্লী প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাসনিম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরুড়া পৌর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী পাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষিকা মেসফুন নাহার।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অনেক শিশু ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারে না, ফলে তারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এ প্রবণতা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশ ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বদেশপল্লী প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাসনিম আহমেদ। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, এ উদ্যোগ শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বরুড়া উপজেলার ১৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭২ জন শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার (টিফিন) সরবরাহ করবে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা টিফিনে পাবে পুষ্টিকর বনরুটি, কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, সেদ্ধ ডিম, বিস্কুট এবং দুধ।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই ফিডিং কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Leave a Reply