
এস এম আনোয়ার মনোহরগঞ্জ : কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের নির্দেশে মনোহরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় জড়িত দুই দুর্ধর্ষ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুর গ্রামের প্রবাসী নাসির উদ্দীন তার এক বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি কিসমত গ্রামে যাওয়ার পথে লক্ষণপুর বাজার থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি ভাউপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ করে একই গ্রামের সৈয়দ আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও রুহুল আমিনের ছেলে ইলিয়াস। তারা নাসিরকে জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নামিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেয়।
পরে অস্ত্রের মুখে নাসিরকে ভাউপুর দক্ষিণপাড়া নুরানী তালিমুল মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তার কাছে থাকা টাকা-পয়সার তথ্য জানতে চায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে নাসির জানান তার টাকা শ্বশুরবাড়িতে রয়েছে। এরপর রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার শ্বশুর হাজী হাশেমের বাড়িতে।
সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগ দেয় একই গ্রামের শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিন (৩২), রাসেল (৩৫) এবং কামাল হোসেন (৩৫)। পরে তারা বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নাসিরের এক বছরের শিশু ছেলে নাফিসের গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেয়। এসময় আলমিরা ভেঙে নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয় তারা।
ঘটনা জানাজানি হলে একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পরদিন গ্রামবাসী একজোট হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামকে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
পরে সোমবার বিকেলে নাসির উদ্দীন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মনোহরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দীনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কথা উল্লেখ করে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে তাকে বেশ আতঙ্কিত দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসির উদ্দীন দেশে ফেরার পর অভিযুক্তরা তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
Leave a Reply