
নয়ন দেওয়ানজী।।
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লগ্নসার আনন্দ বৌদ্ধ বিহার ও ড. সুনীথানন্দ মেমোরিয়াল সোসাইটির আয়োজনে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ (৬ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দ) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
ভোরে মৈত্রী সূত্র পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন এবং শীল গ্রহণ, বুদ্ধপূজা ও প্রয়াত জ্ঞাতিগণের উদ্দেশ্যে সংঘদান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত সুমনবংশ মহাথের, সভাপতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্মিলনী।
সভাপতিত্ব করেন ভদন্ত উ পঞঞাচক্কা মহাথের, প্রতিষ্ঠাতা, খৈয়াখালী ধম্মবিজয়ারাম বিহার।
উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন ভদন্ত সুমনানন্দ ভিক্ষু, অধ্যক্ষ, কাঁঠালভাজা সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার। ধর্মালোচনা হিসেবে ছিলেন ভদন্ত করুণানন্দ ভিক্ষু, অধ্যক্ষ, রামদাশ মহাবিহার, রাউজান।
ধর্মালোচনায় অংশ নেন ভদন্ত সংঘমিত্র ভিক্ষু, ভদন্ত জ্ঞানেন্দ্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ সম্মানিত ভিক্ষুগণ।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মসভা, সংবর্ধনা ও শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব।
স্বাগত বক্তব্য দেন দিলীপ বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক, বিহার পরিচালনা কমিটি।
শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কীর্তনীয়া সুমন বড়ুয়া, সহ-সম্পাদক, বিহার পরিচালনা কমিটি।
পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ করেন বিমল চন্দ্র বড়ুয়া, সহ-সভাপতি, বিহার পরিচালনা কমিটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নু এমং মারমা মং, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বরুড়া, কুমিল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব কামরুল হাসান রনি, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, বরুড়া এবং বাবু প্রণব কুমার বড়ুয়া(সাগর) উপ-সহকারী প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ–২।
ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও শান্তির মন্ত্রে অনুপ্রাণিত এই মহতী অনুষ্ঠানে শত শত ভক্তবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ী অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বশান্তি কামনায় ফানুস উত্তোলন, যার আয়োজন করে ড. সুনীথানন্দ মেমোরিয়াল সোসাইটি।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ভদন্ত শাসনানন্দ ভিক্ষু, উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হর্ষবর্ধন বড়ুয়া ও রতন চন্দ্র সিংহ।
ধর্মসভা উপস্থাপনায় ছিলেন সুজনানন্দ ভিক্ষু (বিপ্লব কুজুর)।
পূণ্য, মৈত্রী ও ধ্যানের শুভস্পর্শে মুখরিত এই কঠিন চীবর দানোত্তম উৎসব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মনে এনেছে নতুন প্রেরণা ও শান্তির বার্তা।
Leave a Reply